আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি : সম্মিলিত চার ছাত্র সংসদের গণপ্রতিরোধের ডাক

সিটিজি পোস্ট প্রতিবেদক

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ১২ নভেম্বর, ২০২৫

আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি : সম্মিলিত চার ছাত্র সংসদের গণপ্রতিরোধের ডাক

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানীসহ দেশজুড়ে। এই কর্মসূচিকে “অবৈধ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা” আখ্যা দিয়ে গণপ্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসুর সম্মিলিত চার ছাত্র সংসদ।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপিদের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দলমত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র, জনতা ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান— ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যেখানেই নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসী উপদ্রব দেখা দেবে, সেখানেই জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবে।”

জুলাই অভ্যুত্থান দমন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার সংক্রান্ত রায়ের দিন ঘনিয়ে আসায় আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ ও লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

ইতিমধ্যে রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণ, চারটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও সূত্রাপুরে বাসে আগুনের ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এক চালক জুলহাস মিয়া দগ্ধ হয়ে মারা যান।

সম্মিলিত ছাত্র সংসদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “দেশদ্রোহী ও গণহত্যাকারীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল বাড়িয়ে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে জাতিকে নিরাপদ রাখতে হবে।”

তাদের দাবি, জুলাই গণহত্যার বিচারের অগ্রগতি “দৃশ্যমানভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।”

বিবৃতিতে সই করেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু, ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

চার সহসভাপতি (ভিপি) যৌথভাবে বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ আঠারো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ,এখনো জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”

বিবৃতিতে অতীতের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, “লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে গুম-খুন, গণহত্যা ও রাষ্ট্রের দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।”

সম্মিলিত ছাত্র সংসদ অভিযোগ করেছে, “দেশজুড়ে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ষড়যন্ত্র চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সন্তোষজনক নয়।”

তারা সরকারের প্রতি “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কর্মসূচির জবাবে ‘জুলাই ঐক্য’ নামের এক মোর্চাও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

তারা বুধবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেছে।

সিটিজিপোস্ট/এমএইচডি

ক্যাটাগরি:
ক্যাম্পাস