চট্টগ্রাম-১৩ সরওয়ার নিজামের মনোনয়ন বাতিলে ফের মশাল মিছিল-বিক্ষোভ
দলের দুঃসময়ে ছিলেন বিদেশে, সুসময়ে এসে ভাগিয়ে নিলেন মনোনয়ন- ক্ষুব্ধ তৃণমূল
আনোয়ারা প্রতিনিধি | সিটিজি পোস্ট
প্রকাশিত হয়েছে: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ফের মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রিভিউ চট্টগ্রাম-১৩, বয়কট বিশ্বাসঘাতক সরওয়ার জামাল, আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে বিশ্বাসঘাতকের ঠাঁই নেই ইত্যাদি স্লোগান স্রোগানে মশার মিছিলটি কর্ণফুলীর বাদামতল এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কর্ণফুলী উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এসময় প্রায় ২ঘন্টা সড়কে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠিত এই মশাল মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেয় শত শত নেতাকর্মী। যাদের বেশির ভাগই স্বৈরশাসনামলের মামলা, হামলা জুলুম-নির্যাতনের শিকার ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মী।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সরওয়ার জামাল একজন ‘সুবিধাবাদী’ ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি-যার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড বিএনপির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে তিনি বিদেশে ছিলেন বিলাসী জীবনে, আর এখন দলের সুসময়ে এসে অর্থের প্রভাবে মনোনয়ন ‘ভাগিয়ে নিয়েছেন’। তৃণমূল বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দৃশ্যমান সম্পর্ক নেই বলেও অভিযোগ ওঠে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, ধানের শীষের তৃণমূল কখনোই সরোয়ার জামালকে প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। মনোনয়ন বাতিল না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি ৬টি আসন এখনো ঝুলে আছে। ঘোষিত আসনের অর্ধেকেই এখন বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী। চট্টগ্রাম–১৩ আসনটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়। সুবিধাবাদী সরোয়ার জামালের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই আনোয়ারা-কর্ণফুলী উত্তপ্ত। তৃণমূলের দাবি- প্রার্থী হতে হবে দলের প্রতি বিশ্বস্ত, ত্যাগী, নির্যাতিত নেতা।
এই দাবিতে লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারীরা গত ১মাস ধরে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ২১শে নভেম্বর কাফনের কাপড় বেঁধে সরওয়ার জামালকে বয়কটের ডাক দিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এর আগে ১৩ নভেম্বর কালাবিবির দিঘীর মোড়ে অনুষ্ঠিত মশাল মিছিলে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন। তারা সরওয়ার জামালের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং ব্যানার–ফেস্টুনে আগুন ধরান।
একজন স্থানীয় প্রবীণ বিএনপি নেতা বলেন, “আমার ৩০ বছরের রাজনীতিতে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এভাবে তৃণমূলের ঐক্যবদ্ধ ক্ষোভ দেখিনি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
সরওয়ার জামালের প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে গত১৩ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগও পাঠান তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা- দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া।
অনেকেই বলছেন, সরোয়ার জামালের মনোনয়ন বাতিল না হলে তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ, দলভাঙা বা অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই প্রার্থীকে বহাল রাখলে বিএনপির ভোটব্যাংক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আসনটি হারানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় এক জেলা নেতা বলেন,“এখনই ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী মাঠ হাতছাড়া হয়ে যাবে। ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করলে দল সংকট থেকে উঠতে পারবে না।”




