মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করায় চবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

সিটিজি পোস্ট প্রতিবেদক

চবি প্রতিনিধি | সিটিজি পোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করায় চবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ব্যক্তিকে ‘ধমক দিচ্ছে’। ভাইরল এ ভিডিও শেয়ার করে মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার দলীয় পদ স্থগীত করেছে কেন্দ্র।

ওই নেতার নাম কে এম ফাহিম। তিনি শাখা ছাত্রদলের ২৫তম সহ সভাপতি ছিলেন। এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থী।

সোমবার ( ১৭ নভেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি কে এম ফাহিমের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হলো।'

তবে বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল না।

এদিকে ফাহিমের দাবি, "মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি ভিডিও নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করায় দল থেকে আমার পদ স্থগীত করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ভিডিওটি আমি সরিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি সমালোচনা করলাম কেনো এরজন্য সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী নব্য চবি ছাত্রদলের কমিটিতে পদপ্রাপ্ত কয়েকজন আমাকে বহিষ্কার করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। যার ফলশ্রুতিতে আমার পদ স্থগিত করা হয়। এমনকি আমাকে জানানো হয়নি কেনো আমার পদ স্থগিত করলো!"

তিনি আরও বলেন, "প্রথম বর্ষ থেকেই দলের দুর্দিনে ছাত্রদল করে এসেছি । সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ছিলাম। সম্প্রতি চবি ছাত্রদলের কমিটি তে আমাকে পঁচিশ নং ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। সিন্ডিকেট নির্ভর কমিটি হয়। যেখানে দলের প্রতি ত্যাগ অবদানকে মূল্যায়ন না করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সাবেক ছাত্রলীগার, প্রবাসী, বিবাহিত, বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের আমার আগে পদে রাখা হয়।"

চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সংগঠন বিরোধী সুস্পষ্ট কার্যকলাপের কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র।'

তবে তার কাছে সুস্পষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোন কারণ বলতে চাননি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর নিজের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন কে এম ফাহিম। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, "মীর্জা ফখরুল ইসলাম স্যারের মতো সিনিয়র ব্যক্তিদের এই ধরনের আচরণ মোটেই কাম্য নয়। অথচ ভোটের সময় সব দলের নেতাই এলাকার সব ধরনের, সব বয়সের মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা চাইতে যায়। বামপন্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যারদের সাথে ডানপন্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পার্থক্য কোন জায়গায় জানেন? সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরা সাধারণ মানুষের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করতো না, তাদেরকে তিরষ্কার করতোনা। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরা ক্ষমতাকে চোখে চোখ রেখে চ্যালেঞ্জ করতো। হেয় কিংবা অপমান করলে ক্ষমতাশীল ব্যক্তিবর্গকে করছে কোনো সাধারণ মানুষদের করেনি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরা হাসিনার মতো মাফিয়াকে সংসদের ভরা মজলিসে কথার ব্রাশফায়ারে নাস্তানাবুদ করছে। কিন্তু বামপন্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যাররা সাধারণ মানুষদের সাথে উগ্র আচরণ করলেও ক্ষমতাশীল ব্যক্তিবর্গদের সব সময় শ্রদ্ধার সাথে চেটে গিয়েছেন। মীর্জা ফখরুল স্যারদের হেডাম নাই এই ধরনের ধমক আওয়ামী লীগ কিংবা হাসিনাকে দেয়ার। এমন আচরণ আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য অশনী সংকেত।"

সিটিজিপোস্ট/জাউ

ক্যাটাগরি:
ক্যাম্পাসচট্টগ্রাম