ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তফসিল; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ইসির বৈঠক আজ
সাধারণত তফসিল থেকে নির্বাচনের ব্যবধান ৪০–৪৫ দিন হলেও এবার তা ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
প্রকাশিত হয়েছে: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। কমিশনারদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অথবা ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
সাধারণত তফসিল থেকে নির্বাচনের ব্যবধান থাকে ৪০–৪৫ দিন। তবে এবার তা ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের সম্ভাব্য তারিখ সরকারকে এখনও জানানো হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ টিবিএসকে বলেন, 'ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হবে—১ থেকে ৭ ডিসেম্বরের যেকোনো দিন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলতে পারছি না—৪ বা ৭-ও হতে পারে।"
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের সময় ইসি জানিয়েছিল, ভোটের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করবে তারা। এ বিষয় প্রশ্নের জবাবে মাছউদ বলেন, '৬০ দিন বাধ্যতামূলক নয়। ৫৮ কিংবা ৬২ দিনও হতে পারে। মোটামুটি ৬০ দিনের কাছাকাছি হিসাব ধরা হয়েছে।'
নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ সরকারকে জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এখনও জানাইনি। তবে এই সপ্তাহেই জানিয়ে দেব। ৭ তারিখের মধ্যে তফসিল ঘোষণার তারিখ জানানো হবে।'
এর আগে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে মোতায়েন কৌশল চূড়ান্ত হবে।
সাধারণত তফসিল থেকে নির্বাচনের ব্যবধান থাকে ৪০-৪৫ দিন। এবার সেটি বাড়িয়ে ৬০ দিন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিতে হলে ৩ বা ৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে উপযোগী। কারণ ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শুক্র-শনিবার—ছুটির দিনে তফসিল ঘোষণার নজির নেই।
আর দ্বিতীয় সপ্তাহে গেলে তারিখ দাঁড়ায় ৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর। ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরুর আগে ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা কমিশনের।
আইনশৃঙ্খলা বৈঠক আজ
বৃহম্পতিবর (২৭ নভেম্বর) এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিয়ম ও প্রাক – প্রস্তুতিমলক সভা করবে ইসি। সেখানে ভোটের নিরাপত্তা, বাহিনী মোতায়েন পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ও নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাহিনীপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩০ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ২২ জন সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল ও পরিচালনাগত কাজের নির্দেশনা দেবে কমিশন।
ইসি মাছউদ বলেন, আজকের বৈঠকে মূলত নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পরিস্থিতির অগ্রগতি ও নির্বাচনের আগে কীভাবে আরও উন্নয়ন আনা যায়—সেসব বিষয় আলোচনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বৈঠক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ইসি আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা আয়োজন করছে। এতে ভোটের নিরাপত্তা, বাহিনী মোতায়েন পরিকল্পনা, মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় ও নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাহিনীপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩০ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ২২ জন সচিবসহ অন্যান্য দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল ও পরিচালনাগত কাজের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ইসি মাছউদ বলেন, আজকের বৈঠকে মূলত নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পরিস্থিতির অগ্রগতি ও নির্বাচনের আগে কীভাবে আরও উন্নয়ন আনা যায়—সেসব বিষয় আলোচনা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের পরিকল্পনা
নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখতে চায় ইসি। বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা জন্য যেকোনোভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কার্যকর মনিটরিং ও দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
এক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপরেই ছেড়ে দিতে চায় ইসি। কার্যপত্রে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৪তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
২৯ নভেম্বর ‘মক ভোটিং’
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৯ নভেম্বর মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোট প্রদানের সময়, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবস্থা ইত্যাদি পরীক্ষা করা হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “শেরে বাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্র সংখ্যা, ভোটকক্ষ ও জনবল বাড়ানো-কমানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সিটিজিপোস্ট/জাউ




