কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটা। একের পর এক মামলা ও প্রশাসনিক অভিযানের পরও দেদারছে চলছে পাহাড়খেকোদের কার্যক্রম। দিনে-রাতে অব্যাহতভাবে কাটা হচ্ছে পাহাড়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরের জেলা পরিষদ পার্ক, গঞ্জপাড়া, পৌর শহরের সবুজবাগ, উত্তর সবুজবাগ, শালবন, কুমিল্লা টিলা, মাইচছড়ি, দীঘিনালা, বন বিহার সংলগ্ন এলাকা, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে।
দীঘিনালার বোয়ালখালী মৌজার হেডম্যান ত্রিদীপ রায় পোমাং বলেন, একটি চক্র আইনের তোয়াক্কা না করে দেদারছে পাহাড় কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করছে। এতে বর্ষায় পাহাড় ধসে আশপাশের গ্রামগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপাশা দেওয়ান ও জমির মালিক মো. ইছাকের অভিযোগ, উপজাতীয় কর্মকর্তা হাউজিং সোসাইটির পক্ষ থেকেও পাহাড় কেটে বাণিজ্যিক প্লট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, পাহাড় কাটা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। উন্নয়নের নামে পাহাড় না কেটে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
প্রশাসন অবশ্য বলছে, পাহাড় কর্তনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইনামুল হাছান জানান, পাহাড় কর্তনের দায়ে ইতোমধ্যে জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের খাগড়াছড়ি সহকারী পরিচালক হাসান আহমদ বলেন, সম্প্রতি পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, দুটি ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে এবং একজনকে জেলও দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০টি স্থানে জরিমানা ও দণ্ড দেয়া হয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবুও চলতি মৌসুমে অসংখ্য পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে।