ভৌগোলিক অখণ্ডতায় হুমকি
সিরিয়ায় আবারও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে সতর্ক করেছে তুরস্ক। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও সিরিয়ার কূটনীতিকরা প্যারিসে নতুন করে রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় বসেছেন।
চলতি জুলাই মাসেই সুয়েইদায় জাতিগত সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। সংঘর্ষ আপাতত থেমে গেলেও এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে সিরিয়াকে বিভক্ত করার গুঞ্জন আবারও জোরালো হয়েছে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি-শাসিত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ইস্যুতেও উত্তেজনা বাড়ছে। দামেস্ক সরকার জানিয়ে দিয়েছে, এসডিএফ যদি অস্ত্র সমর্পণ না করে, তাহলে কোনও সমঝোতা সম্ভব নয়। অপরদিকে, এসডিএফ বলছে, তারা স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপে আগ্রহী, তবে নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য একটি "লাল দাগ"।
এই পটভূমিতে মার্চে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার কূটনীতিকরা। তবে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর বেদুইনদের আক্রমণ থামাতে না পারায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারারের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে, গণহত্যা ঠেকাতে তারা সিরিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে তুরস্ক এর কড়া সমালোচনা করে বলেছে, ইসরাইল মূলত সিরিয়াকে দুর্বল ও বিভক্ত করে নিজেদের একনায়কত্ব বজায় রাখতে চায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকাও এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। তুরস্ক একদিকে এসডিএফ ও দামেস্কের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চায়, অন্যদিকে সতর্ক করে দিয়েছে—সিরিয়ার ভেতরে যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা আঙ্কারার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া, জাতিসংঘের সহায়তায় আয়োজিত এক আলোচনায় সিরিয়ার সামরিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিটিজি পোস্ট/ এসএইচএস