চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আজকে গোলাম আকবর খন্দকার ও গিয়াস উদ্দীন কাদেরের মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববৃন্দ। আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই ২০২৫) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে আরেক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদও স্থগিত করা হয়েছে।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, এলাকায় সংঘাত ও হানাহানির পৃষ্ঠপোষকতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকায় তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একইসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন।
বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব নেতার কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এজন্য তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব স্তরের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাউজানে বিএনপির দুই গ্রুপ—গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরপরই কেন্দ্র থেকে এসব কঠোর সিদ্ধান্ত এসেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন এবং পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিটিজিপোস্ট/এমএইচডি