বহুল আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচন আগের যেকোনোবারের চেয়ে ভিন্নধর্মী হতে যাচ্ছে।
১৯৯০ সালের পর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবার খুব একটা কাজে আসবে না বলেই মনে করছেন শিক্ষার্থী ও বিশ্লেষকরা।
বর্তমানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভিন্ন। যেখানে ২০১৯ সালের নির্বাচনে নুরুল হক নূর ও ছাত্রলীগের শোভনের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল, সেখানে এবার ভিপি পদে আছেন অর্ধ-ডজন হেভিওয়েট প্রার্থী। সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সুপরিচিত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সামনের সারির মুখ ছিলেন। এবারের সমীকরণ আর ফ্যাসিস্ট বনাম ফ্যাসিস্টবিরোধী সীমায় নেই। ফলে ফলাফল অনুমান করাও কঠিন। ডাকসুর এ নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন। সিটিজিপোস্টের বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ।
প্রার্থী সংখ্যা ও পদ
ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি পদে লড়ছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ সম্পাদকীয় পদে ২৫৪ জন এবং ১৩টি সদস্য পদে ২১৭ জন।
চট্টগ্রাম থেকে লড়ছেন মোট ৫০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে ১ জন, এজিএস পদে ২ জন, সম্পাদকীয় পদে ১৪ জন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ১৫ জন।
ভিপি পদে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের আলোচিত সমন্বয়ক আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), যিনি মূলত সাতকানিয়ার হলেও বড় হয়েছেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফটিকছড়ির কন্যা উমামা ফাতেমা, যিনি জুলাই আন্দোলনের সময় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজনৈতিক কর্মী আবু তৈয়ব (হাবিলদার) তার বাড়ি চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানায়। তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন। বয়সে তিনি এবারের সবচেয়ে প্রবীণ ভিপি প্রার্থী।
এছাড়া বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদও ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি সাতকানিয়ার সন্তান।
জালাল উদ্দিন নামে আরেকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়েছেন।
জিএস পদে চট্টগ্রামের একমাত্র প্রার্থী এস এম ফরহাদ। তিনি শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি। ফরহাদ পারিবারিক সূত্রে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের। তবে বড় হয়েছেন রাঙ্গামাটিতে।
এজিএস পদে রয়েছেন রাউজান উপজেলার জাহেদ আহমদ (স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আরমানুল হক। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছেলে।
সম্পাদকীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সম্পাদকীয় পদে চট্টগ্রাম থেকেও বেশ কয়েকজন আলোচনায় আছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহেশখালীর ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং সীতাকুণ্ডের আরিফুল ইসলাম।
ফাতিমা তাসনিম জুমা আলোচিত জুলাই ভিত্তিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে ছিলেন।
কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে রয়েছেন কক্সবাজারের তাজিন মোহাম্মদ আলভি এবং সাতকানিয়ার উম্মে সালমা।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে লড়ছেন লোহাগাড়ার মোহাম্মদ সাকিব এবং রাঙ্গামাটির তাসনিম বিন মাহফুজ। তারা দুইজনই এই পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রামের আমিরুল করিম অমি এবং বোয়ালখালীর নাহিয়ান ফারুক।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে পার্বত্য চট্টগ্রামের চিম চিম্যা চাকমা একক প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তিনি ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।
সমাজসেবা সম্পাদক পদে রয়েছেন কক্সবাজারের শৈকত শর্মা এবং কুতুবদিয়ার আহেলি করিম ময়ূরী। একই পদে একই জেলার এই দুই ছাত্র-ছাত্রীর লড়াই বেশ উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন ঢাবিতে অধ্যয়নরত কক্সবাজারের শিক্ষার্থীরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে লড়ছেন মহেশখালীর শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন। তিনি জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব।
মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে রয়েছেন সীতাকুণ্ডের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল।
ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে বাঁশখালীর আরকানুল ইসলাম রূপক, রাঙ্গামাটির রুপাইয়্যা শ্রেষ্ঠা তঞ্চজ্ঞ্যা এবং লিটন ত্রিপুরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে চট্টগ্রামের কোনো প্রার্থী নেই।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়েছেন—হাটহাজারীর নেওয়াজ শরীফ আরমান ও অর্ক বড়ুয়া, সাতকানিয়ার রায়হান উদ্দীন, উখিয়ার মোর্তজা হোসাইন শাফী, চকরিয়ার মোস্তফা আহমদ, টেকনাফের রিয়াজ উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, রামুর মোহাম্মদ রিদুয়ন, পেকুয়ার জাহেদুল ইসলাম জিহাদ, রাঙ্গুনিয়ার ইয়াছিন আরাফাত এবং সীতাকুণ্ডের ইশরাত জাহান ইমু। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হেমা চাকমা, সর্বমিত্র চাকমা ও ঊপাইমং পৃথিং।
ডাকসু নির্বাচনের ভোট পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা
পূর্ববর্তী নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় সব ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বড় ধাক্কা খেয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের একতরফা নির্বাচনে ছাত্রলীগ ২৫টির মধ্যে ২৩টি পদে জয় পেলেও ভিপি পদে হেরে যায়। সে সময় নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪৩ হাজার ২৪৪ জন, তবে ভোট দেন প্রায় ২৪ হাজার (৫৪%)। ভিপি পদে ছাত্রলীগের রেজওয়ানুল হক শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হক নূর পান ১১ হাজার ৬২ ভোট।
১৯৯০ সালের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৬৯০ জন। তাদের মধ্যে ৬২.৯৫ শতাংশ ভোট দেন। সে সময় ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান, যিনি পান ৭ হাজার ৩৮৯ ভোট। জিএস পদে ছাত্রদলের খাইরুল কবীর খোকন এবং এজিএস পদে নাজীম উদ্দীন আলমও ৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন।
তবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি সবাই জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ। ফলে ভোটের ব্যবধানও খুব বেশি হবে না। অনুমান করা হচ্ছে, আট থেকে নয় হাজার ভোট পেলেই ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে জেতা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
সহ-সভাপতি পদে আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) ও উমামা ফাতেমা, সম্পাদকীয় পদে ফাতিমা তাসনিম জুমা ও আরিফুল ইসলাম, এজিএস পদে জাহেদ আহমদ ইতোমধ্যেই আলোচনায় আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে—চট্টগ্রামের প্রার্থীরা ডাকসুর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
জেএ/এমএইউ
৩০ আগস্ট, ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘‘গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরুর উপর জঘন্যতম হামলা ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানায় এবং ভিডিও ফুটেজসহ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানায়। এই হামলায় প্রমাণ করে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার গ...
৩০ আগস্ট, ২০২৫
৩০ আগস্ট, ২০২৫
৩০ আগস্ট, ২০২৫
৩০ আগস্ট, ২০২৫
৩০ আগস্ট, ২০২৫
৩০ আগস্ট, ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘‘গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরুর উপর জঘন্যতম হামলা ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানায় এবং ভিডিও ফুটেজসহ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আই...