আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে শত শত বাঙালি মুসলিমকে আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত। এতে বলা হয়েছে, এসব মানুষ ভারতীয় নাগরিক হলেও তাঁদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে ঠেলে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, চলতি বছরের মে মাস থেকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পদক্ষেপ। তবে সংস্থাটি বলছে, এটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ভয়ংকর নজির।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, “বিজেপি নির্বিচারে এমনকি ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদেরও জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে বৈষম্যের সৃষ্টি ও উস্কে দিচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর যে দাবি ভারত করছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ তারা কোনো আইনগত প্রক্রিয়া বা মানবাধিকার মানছে না।”
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত জুন মাসে সংস্থাটি জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর শিকার ১৮ জন ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁদের একজন আসামের সাবেক স্কুলশিক্ষক খায়রুল ইসলাম (৫১)। তিনি জানান, গত ২৬ মে বিএসএফ সদস্যরা তাঁর হাত বেঁধে মুখ চেপে ধরে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তাঁর সঙ্গে আরও ১৪ জন ছিলেন।
খায়রুল বলেন, “আমি যখন বাংলাদেশে যেতে অস্বীকার করি, তখন বিএসএফ অফিসার আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং চারবার আকাশে রাবার বুলেট ছোড়ে। দুই সপ্তাহ পর তিনি কোনোভাবে ভারতে ফিরে আসেন।"
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মুসলিম পুরুষ, নারী ও শিশুকে ‘পুশ-ইন’ করেছে ভারত। এদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, আসাম, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও রাজস্থান রাজ্যে দরিদ্র মুসলিম শ্রমিকদের টার্গেট করে আটক করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই তাঁদের সীমান্তে পাঠানো হচ্ছে। কেউ কেউ নিখোঁজ, কেউবা পুনরায় ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, “যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা দেশ থেকে বের করে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভারত সরকারকে অবিলম্বে মৌলিক সুরক্ষা, তথ্যপ্রাপ্তি, আইনজীবীর সহায়তা এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
সিটিজি পোস্ট/ এসএইচএস