আমাকে হারাতে জেলা বিএনপির ১০০ কোটি টাকার বাজেট: আলতাফ হোসেন

সিটিজি পোস্ট প্রতিবেদক

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

আমাকে হারাতে জেলা বিএনপির ১০০ কোটি টাকার বাজেট: আলতাফ হোসেন

পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে হারাতে ১০০ কোটি টাকা বাজেট করেছে এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে বলেন “তারা আমাকে হারাতে ১০০ কোটি টাকার বাজেট করেছে। কিন্তু রুহুল আমিন হাওলাদার কেমনে নির্বাচন করবে? তার বিরুদ্ধে তো অনেক মামলা, মার্ডার কেসও আছে—একটাতেও জামিন নেই, রেজাল্ট জিরো।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওনারা ব্যাংকার দিয়ে রাজনীতি করাবে, কন্ট্রাক্টর দিয়ে নির্বাচন করাবে। গণ অধিকারের ভিপি নূরকে দিয়ে নির্বাচন করাবে। তাকে দিয়ে শুধু নির্বাচনই করাবে না, তাকে টাকাও দেবে, কিন্তু নূর রাজি হয়নি। তখন তারা রুহুল আমিন হাওলাদারকে (জাতীয় পার্টি) ধরছে।’’

গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার বদরপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় জেলা বিএনপির কতিপয় নেতাকে নিয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।

সভায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার আগে আমি জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি), সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন), জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র মোস্তাক আহম্মেদকে মুঠোফোনে কল করে কথা বলেছি। এরপর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বাসা ও অফিসে গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি। কিন্তু চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এখন জেলা বিএনপি অভিযোগ করছে, আমি তাদের ডাকছি না। আমি তাদের দাওয়াত খাওয়ার জন্য তো ডাকব না। নির্বাচনে কাজ করার জন্য ডাকব। আমার প্রথমে দেখতে হবে, কে কী কাজ করার জন্য যোগ্য। সেটা তো আমার দেখতে হবে, তারপর তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে এটা সত্য, যারা বিএনপির দুর্দিনে সম্মুখসারিতে ছিল, রক্ত দিয়েছে, জেল খেটেছে—তাদের হাত দিয়েই নির্বাচন হবে।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর (আলতাফ হোসেন চৌধুরী) অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। তিনি কোনো প্রমাণ দিতেও পারবেন না। ভিত্তিহীন এ বক্তব্যে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার বলেন, জাপার রুহুল আমিন হাওলাদারকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জেলা বিএনপিকে ছোট করছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অথচ তিনি নিজেই রুহুল আমিনের আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত খাচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তিনি জেলা বিএনপির বৈধ কমিটিকে অস্বীকার করছেন। মূলত বয়স বেড়ে যাওয়ায় তিনি কী বলছেন, নিজেও জানেন না। তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে আলতাফ হোসেন চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলো বলেন, তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। তাঁরা এই কাজগুলো করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন। এরপর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার ও পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে তিনি দ্বন্দ্বে জড়ান। ধীরে ধীরে সেই দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার এখানে মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। পরে আলতাফ হোসেন চৌধুরী মনোনয়ন পেলে দুই পক্ষের বিভাজন মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু আলতাফ হোসেন চৌধুরী কয়েকটি নির্বাচনী সভায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে জেলা বিএনপি তাঁকে কোনো সহযোগিতা করছে না। এরপর পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার প্রকাশ্যে আসে।

সূত্র: প্রথম আলো

সিটিজিপোস্ট/জাউ

ক্যাটাগরি:
রাজনীতি