আমার সাথে উল্টাপাল্টা করলে লুলা হয়ে যাবা: শাহজাহান চৌধুরী
পরপর বিতর্কে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিটিজি পোস্ট
প্রকাশিত হয়েছে: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫

জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী পরপর একাধিক মন্তব্যের কারণে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সামাজিকমাধ্যমে বক্তব্যগুলো ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় পর্যায়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসবের প্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকায় গণসংযোগে দেওয়া শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাকে আঞ্চলিক ভাষায় সমালোচকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “চুদুর-বুদুর নো গোরিও, লুলা ওইও যাইবা… খবরদার খবরদার, আঁই হইলাম শাহজাহান চৌধুরী… আঁর লাই আল্লাহ আছে, আঁর চোখর পানি বৃথা নোয় যায়।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে শাহজাহান দাবি করেন, তিনি ১৮ বছরের মধ্যে ৯ বছর কারাভোগ করেছেন এবং মানুষের দোয়া নিয়েই রাজনীতি করেন। সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার রাজনীতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “এখানে মার্কা একটাই—দাঁড়িপাল্লা।”
১৫ নভেম্বর কাঞ্চনা ইউনিয়নের এক কর্মী সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে ‘গার্ডিয়ান অব চিটাগাং’ ঘোষণা করেছেন।”
পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, জনগণের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে অবচেতন ভুলে এ মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তিনি স্বীকার করেন, এটি সঠিক তথ্য নয়।
২২ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি সবচেয়ে বিতর্কিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, “নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়… যার যার এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।”
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
২৫ নভেম্বর দলীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, তার বক্তব্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দলের ভাবমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। অতীতে তিনি একাধিকবার শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে; সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “২১ নভেম্বরের বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। দল এটি সমর্থন করে না।”
তিনি আরও জানান, দল ইতোমধ্যে বিষয়টি আমলে নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের জামায়াত–মনোনীত এই প্রার্থী এক সপ্তাহে তিনবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্বাচনের সময় “বস্তা বস্তা টাকা ও অস্ত্র ঢোকার” আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়… নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে-বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।”



