চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ-বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অনেক পুরনো। পূর্বে এবং চলমান সময়ে রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ- বিএনপি’র মধ্যে বৈরিতা পূর্ণ সম্পর্ক এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চললেও কখনো তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি চট্টগ্রামের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে । কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে এবার উত্তপ্ত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটালো সংঘর্ষে জড়িয়ে দুই দলেই। আজ বিকেলে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল এবং সেই সাথে চলছিলো চট্টগ্রাম ১০ আসনের নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুরনির্বাচনী ক্যাম্পে নেতাকর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র নিশ্চিত করেছে, হঠাৎ করেই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মুষ্টিমেয় কিছু বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা পদযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে ফেরার সময় ওয়াসা মোড়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, প্রচারণার গাড়ি ও যানবাহন ভাংচুর করে।
তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬ টায় দনগরীর নূর আহম্মেদ সড়কে অবস্থিত বিএনপি অফিসে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার সময় ওয়াসা মোড়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর করেছে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার নেতাকর্মীরা নির্বাচনী ক্যাম্পে বসেছিলেন। তখন বিকাল সাড়ে ৫টা। বিএনপির কর্মীরা তাদের দলীয় কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে আমার নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডাক্তার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা কোথাও কোনো ধরনের ভাঙচুর করিনি। আমাদের কর্মসূচি শেষ হয়েছে দেওয়ান হাট মোড়ে। আমাদের কর্মীরা ওয়াসার মোড় দিয়ে ফিরে যাবে কেন?’
তিনি আরও বলেন, নগরীর খুলশী থানাধীন ওয়াসা মোড় থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী নাসিমন ভবনে এসে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ , আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাংচুর শেষে চলে যাওয়ার পর আরেক গ্রুপের নেতাকর্মীরা নগরীর নন্দনকানন থেকে মিছিল নিয়ে নাসিমন ভবনের সামনে আসেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা আরো অভিযোগ করেছেন, সেখানে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমকে দেখা গেছে এবং হামলার নেতৃত্বে তিনি ছিলেন ।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা নাসিমন ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
সংঘর্ষের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগ অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর রাত আটটার দিকে দলীয় নেতা -কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডাক্তার শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির যুগ্নআহবায়ক আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ভাঙচুরকৃত বিএনপি অফিস পরিদর্শন করেন এবং গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন,
” চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই প্রথম কোন রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে তান্ডব লীলা চালানো হয়েছে। সহিংস রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না । তারা নিজেরা হামলা করে বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে চট্টগ্রামে বিরাজমান শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করার পায়তারা করছে । আজকের এই হামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। ”
পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সমগ্র চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংস ঘটনার আশঙ্কায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ।