চট্টগ্রামের দু:খখ্যাত কালুরঘাট সেতুর সংস্কারের ধুয়ো তুলে কোটি কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার বিরুদ্ধে। কালুরঘাট সেতু মেরামত কাজ শেষ করে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা নতুন করে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরনো কালুরঘাট সেতু মেরামত কাজ শেষ করে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের কথা রেলপথ মন্ত্রণালয় জানালেও একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে ফেরির ইজারাদার হিসেবে নিয়োগে ‘সময়ক্ষেপন’ করা হয়েছে।
কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে ফেরি চালু করা না গেলে বিদ্যমান কালুরঘাট সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। কারণ কালুরঘাট সেতু মেরামতের কাজ শুরু হলে সেতু দিয়ে সকল ধরনের যানবাহ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বেশির ভাগ গাড়ি নিচে ফেরি দিয়ে পারাপার হবে।
চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেলওয়ে কাম সড়ক সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে। নানা ইতিহাসের সাক্ষী এবং উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামকে সংযুক্তকারী এ সেতুকে ২০০১ সালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা দেওয়া হয়।এরপরও সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে ট্রেন থেকে শুরু করে সব ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন। এ সেতুতে ১০ টনের বেশি ভারি যানবাহন নিষিদ্ধ।তবে ট্রেন চলে ঘণ্টায় মাত্র ১০ মাইল বেগে। অবকাঠামো একবারেই নড়বড়ে।
কিন্ত কালুরঘাট ফেরি থেকে টোল আদায়ের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ পরপর পাঁচ দফা টেন্ডার আহ্বান করার পরও টেন্ডারে একটি সিন্ডিকেট ছাড়া কেউই অংশ নিতে পারে নি। সরকারি অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেরি ইজারায় আভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছে । প্রথম তিন দফা টেন্ডারে কোন প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখান নি ফেরির ইজারা নিতে। চতুর্থবার রি টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। চতুর্থ বারের টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। পঞ্চম দফা টেন্ডার আহবান করা হলে জমা পড়ে একটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র। এক কোটি সাত লাখ টাকা দর কোড করে সিন্ডিকেটভুক্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান।
এখন ষষ্ঠ দফা টেন্ডার আহ্বান করা হলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান সিডিউল ক্রয় করে। মঙ্গলবার (১১ ই জুলাই) ষষ্ঠ বারের দরপত্র ড্রপিংএর দিনে কোন প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয় নি। অনুসন্ধানে জানা যায় ছয় প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র ক্রয় তরে ‘একই ব্যক্তি ‘। দরপত্র ক্রয় করে জমা না দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আমরিন এন্ড ব্রাদার্স, মাওয়া এন্টারপ্রাইজ, মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স, মেসার্স ফ্লোরা ব্রাদার্স এন্ড ব্রাদার্স, আমরিন এন্ড মাওয়া জিবি, আমরিন এন্ড মাওয়া – ফ্লোরা ব্রাদার্স লিমিটেড।পরের বার রি টেন্ডার করার কথা থাকলেও পঞ্চম দফা টেন্ডারে অংশ নেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের দরকে বিবেচনায় নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা ফেরিটির ইজারা চুড়ান্ত করার সুপারিশ করেছেন। ফলে প্রতিযোগিতামুলক দরে ফেরির ইজারা প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটের ছক অনুযায়ী বাধাগ্রস্ত হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, জুনে কালুরঘাট সেতু দিয়ে বিদ্যমান রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হলে মেরামত করে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালাতে সময় লাগবে তিন মাস। ৬ থেকে ৭ মাসের জন্য ফেরির টোল আদায়ের টেন্ডারে কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না ; এমন অজুহাতে ওই সিন্ডিকেটটি দরপত্র ক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
পরপর তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তাতে কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা।
তিনি বলেন, ফেরির রক্ষণাবেক্ষনসহ ইজারা আদায়ের জন্য আমরা পরপর তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করেছি, কিন্তু কেউ অংশ গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত পাঁচবার টেন্ডার (পঞ্চম দফা) আহ্বান করছি।
পঞ্চমবার দরপত্র জমা দেয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স ও ষষ্ঠবার দরপত্র ক্রয় করা বাকি পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত মনসুর আলম পাপ্পী ও তার সহোদর ববি আলম। ‘ মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স’ এর নামে এক কোটি সাত লাখ টাকা দর কোড করার নেপথ্যে মনসুর আলম পাপ্পী। সুত্রমতে, নতুন করে রি টেন্ডার না করে মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্সকে ইজারা দেয়া সুপারিশ করতে ঘুষ লেনদেন করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা মতো তড়িঘড়ি করে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা।
জানা যায়, দরপত্রে কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে আগ্রহী নয় ; এমন ধুয়ো তুলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে টোল আদায় করার ছক তৈরি করে নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা। তিনি একই পদ্ধতিতে কোন টেন্ডার ছাড়াই বিভাগীয় পদ্ধতির টোল আদায়ের নামে পোর্ট এক্সেস রোডের ‘ ঠিকাদার দিয়ে’ টোল আদায় করছেন প্রায় দেড় বছর ধরে।
একমাত্র প্রতিযোগি প্রতিষ্ঠান একে এন্টারপ্রাইজের কাছে পঞ্চম দফা, ষষ্ঠ দফা কোন দরপত্র বিক্রি করা হয় নি। জানতে চাইলে হামিদ উল্লাহ বলেন, ‘ দরপত্র ক্রয় ও জমা দেবার কোন পরিবেশ ছিলো না। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সওজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় আসলে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেই সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কারো কাছে টেন্ডার ফর্ম বিক্রি করা হয় নি। নতুন করে রি টেন্ডার দেয়া হলেই বিষয়টি প্রমানিত হবে। ‘
অনুসন্ধানে জানা যায়, আমরিন এন্ড ব্রাদার্সের মালিক মনসুর আলম পাপ্পীর পরিচয়, তিনি চোর। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছিল। সম্প্রতি বালি উত্তোলন সরঞ্জাম ভাড়া চুক্তি করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ড্রেজার, বাল্কহেডসহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম আত্মসাত করার চেষ্টার অভিযোগে পাপ্পীর বিরুদ্ধে মামলা করেন পিএসপি মেরিন সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী ক্যাপ্টেন কে এম হাফিজুর রহমান। সেই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে ভাড়ায় নেওয়া ড্রেজার, বাল্কহেডে সব মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করেছে পাপ্পী। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট অংশ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকদফা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গেল বছরের ৩১ আগস্ট দুপুরে কালুরঘাট সেতুর আশপাশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করে পুলিশ।
জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ চট্টগ্রামের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন বলেন, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। সিডিউল ক্রয় করে কোন প্রতিষ্ঠান সেটি জমা না দিলে কিছু করার নেই। ‘
সুত্রমতে, বোয়ালখালী আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের শীর্ষ কুশীলব মনসুর আলম পাপ্পু সেতুটির ফেরি ইজারার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার যোগসাজশে। চক্রটির পরিকল্পনা মতে কোন প্রতিষ্ঠানকে ফর্মই বিক্রি করা হয় নি।সর্বশেষ নিজেদের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র ক্রয় করে জমা দেয়া হয় নি ; যেন পঞ্চম পর্বের টেন্ডারের একমাত্র বিডার মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স ফেরীর ইজারা পায়।
এপ্রোচ সড়ক খাতার গরু গোয়াল নেই
চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু ‘সড়ক ও জনপদ ‘ বিভাগের কাছে যেন সোনার ডিম পাড়া হাঁস। ফেরি চলাচলের এপ্রোচ সড়ক নির্মানের কথা বলে লুটপাট করা হয়েছে অন্তত তিন কোটি টাকা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় সড়কটি পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিলো। অথচ একই এপ্রোচ সড়ক নির্মানের কথা বলে লুটপাট করা হয়েছে সরকারি অর্থ।
জানা যায় , মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতুর চাপ কমাতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে । সেতু থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কালুরঘাট ফরেস্ট ডিপো এলাকায় এই প্রকল্পের কাজ দেখানো হলেও সড়কটি অনেক আগেই বিদ্যমান ছিলো। চট্টগ্রামের সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) তথ্য অনুযায়ী , বোয়ালখালী অংশে ফেরি চলাচলের জন্য ঘাট নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর পূর্ব মোহরা বা শহরের অংশে ব্যয় করা হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এবিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এক ব্যক্তি। প্রকল্পের দুটি কাজে ( e-Gp/03/EE/CRD/2022-23 2. e-Gp/02/EE/CRD/2022-23) নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে সেই অভিযোগপত্রে।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই প্রকল্পে দুইশো বাষট্টি ঘনমিটার মাটি ভরাটের কাজ দেখানো হলেও, কোন কাজই করা হয় নি। ঠিকাদার আর নির্বাহী প্রকৌশলী মাটি ভরাটের কাজ বাবত ব্যয়ের পুরোটা লুটপাট করেছেন। ২৬২ ঘনমিটার মাটির সেন্ডার প্রাক্কলনে থাকলেও বাস্তবে ফিরে ছিলো না। এছাড়া দশ হাজার চারশ ঘনমিটার ইটের কাজ দেখানো হলেও, প্রকৃতপক্ষে ৭০০০ বর্গ মিটার ইটের কাজ করে বাকি ৩৪০০ বর্গমিটার কাজের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে,আট ইঞ্চি ব্যাস ও ৬ ইঞ্চি পুরত্বের ৯০০০ ফুট ফাইফ প্লাসেডিং বাবত ‘প্রাক্কলন ব্যয়’ ধরা হলেও মাত্র চার হাজার ফুট পর্যন্ত পাইপ বসানো হয়েছে। বাকি কাজের টাকা ডুকেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর পকেটে। ১০ টন এঙ্গেলের কাজ দেখানো হলেও ২ টন এঙ্গেল লাগিয়ে বাকি আট টন এঙ্গেলের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পপির প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৫০ টি বল্লা প্লাসেডিং (১৮০০ ফুট) হবার কথা, হয়েছে ৭০ টি। বাকি আশিটি বল্লা প্লাসেডিং এর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিডিউলে পঁচিশ হাজার সিমেন্টের বস্তা লাগানোর কথা থাকলেও কোন বস্তাই লাগানো হয় নি। বিক্সয়ের নিচে পাঁচ ইঞ্চি বালি ভরাটের কাজ ধরা হলেও ; এইকাজ না করে পুরো টাকা গায়েব করে ফেলা হয়েছে।
এছাড়া কাজ শেষ করার পর ১৭০ ঘনমিটার ইটের খোয়া এবং ৪৫০ ঘনমিটার বালি মজুত রাখার কথা সিডিউলে উল্লেখ করা ছিলো ; সাইট ইন্জিনিয়ার, নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আঁতাত করে এই কাজও করেন নি ঠিকাদার। এভাবে এপ্রোচ সড়কের নামে হাওয়া হয়েছে অন্তত সরকারের তিন কোটি টাকা।
এপ্রোচ সড়ক নির্মানের নাম করে এমন নজিরবিহীন লুটপাটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপদ বিভাগের তিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
এবিষয়ে, চট্টগ্রাম বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেনের কাছে ১২ ই জুলাই জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘ অভিযোগপত্রটিতে অভিযোগকারীর স্বাক্ষর নেই। ‘
পরে, ওই ব্যক্তির স্বাক্ষর সম্মেলিত অভিযোগ তার মুঠোফোনে পাঠানো হলে কোন জবাব দেন নি সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন।
এদিকে, কালুরঘাট সেতু সংস্কারের জন্য গত ১৮ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। আট মাসের জন্য সংস্কার কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে রেল। শহর এলাকা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতু পার হতে ১০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কারণ, গাড়ির দীর্ঘ সারি একপাশ থেকে আরেক পাশ যাওয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্যপাশের গাড়ি যেতে পারে না। এ ছাড়া প্রতিদিন দোহাজারী রুটের ট্রেন চলাচলের জন্যও এই অঞ্চলের মানুষের সেতু পারাপারে বাড়তি সময় ব্যয় হয়।