সন্দীপ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার। সকাল থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়ে বিকাল চারটায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ভোট গণনায় চরম ‘অনিয়ম ও জালিয়াতি ‘ কাহিনি এখন স্বন্দ্বীপের হাটে ঘাটে মাঠে। মোট ৮৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৩ টি কেন্দ্রের ভোট গণনায় একজন প্রার্থী ১২৪৩ ভোট এগিয়ে থাকলেও, তিন কেন্দ্রের কারিশমায় এক তুড়িতে পাল্টে যায় ফলাফল। উর্কিচরের প্রত্যন্ত এলাকার ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনায় পাল্টে যায় ফলাফল।
সিইসি নিজ এলাকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবেন কিনা, প্রার্থীসহ গণমাধ্যমের নজর ছিল সেই দিকে। ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনাও চলছিলো ঠিকঠাক মতো। তিনটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হবার আগেই বিজয় মিছিল বের করতে দেখা যায় তালা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুকের সমর্থকদের। চশমা প্রতীকের প্রার্থী ইব্রাহিমের সমর্থকদের হট্টগোলের মাঝেই রিটার্নিং অফিসার বেসরকারি ফলাফলে তালা প্রতীকের ওমর ফারুককে জয়ী ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী সন্দ্বীপের মোট ৮৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ফারুকের (তালা) প্রাপ্ত ভোট- ১৫,০০৭ ; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ইব্রাহিম জিল্লু ‘ র (চশমা) প্রাপ্ত ভোট -১৩১১০। অন্য প্রার্থী স্বন্দ্বীপি টিউবওয়েল প্রতীকে ৩০৯৮ ভোট৷ পেয়েছেন। ৮৩ টি কেন্দ্রে ১২৪৩ ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থী ১৮৯৭ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
জানা যায়, সন্দ্বীপের মোট ভোটার ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬১০ জন হলেও ভোট পড়েছে মাত্র ১৩.১১%। ভোটারদের অনুপস্থিতির চেয়ে ফলাফলে বিভ্রাট নিয়ে চায়ের কাপে ধুয়ো তুলছেন সাধারণ ভোটাররা।ফলাফল ঘোষনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। চশমা প্রতীকের সমর্থকরা উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে ঝড়ো হতে থাকে এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট চোর, ভোট চোর স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়।
যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম জিল্লুর সমর্থকরা পুরো জালিয়াতির জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা শফিক আহমেদকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইশারায় ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা শফিক আহমেদ।
জানতে চাইলে চশমা প্রতীকের প্রার্থী ইব্রাহিম জিল্লু বলেন, আমাকে সুকৌশলে পরাজিত করা হয়েছে। আমি এ ফলাফল ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করছি। উর্কিচর ফর্মুলা ভোট পুনরায় গণনা করলেই প্রমাণ হবে৷। ‘
নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, আমাকে নির্বাচিত করার জন্য আমি সন্দ্বীপবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, ‘ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোট কারচুপিও জালিয়াতির জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা শফিক আহমেদকে দায়ী করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে বিভিন্ন জনকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিব উল আউয়াল এর জন্মভূমিতে ভোটের রেজাল্ট কারচুপির বিষয়ে শরিফুল হাসান লিখেছেন,’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল তার জন্মভূমিতে সুষ্ঠু ভোট দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মাত্র ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। ‘