প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন। তিনি দেশ এবং দেশের জনগণের কথা চিন্তা করেন। দ্রব্যমূল্যর উর্ধ¦গতি নিয়ে তিনি যথেষ্ট সচেতন। সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য তিনি বিভিন্ন দিক অবলম্বন করে বাজার দ্রব্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। আজকে সারা বিশ্বে যুদ্ধজনিত অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য আমাদের জনজীবনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে সেটা সাময়িক। তাই আমি বিএনপিকে বলব দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে এবং দেশের মানুষ অনেক শান্তিতে আছে।
আজ চট্টগ্রাম বিজিএমইএ মিলনায়তনে Chattogram Center for Regional Studies, Bangladesh (CCRSBD) এর উদ্বোধন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সংকটের গতি, প্রকৃতি ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম ভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল আজিম আরিফ’র সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকি, চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডীন ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুখ এসময় বক্তৃতা করেন। এছাড়াও বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্ত শোভা রানী ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যক্ষ ড. মাহফুজ পারভেজ এবং অনেক শিক্ষার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী। অর্থনৈতিকভাবে আমরা বাকি নগর থেকে অনেক এগিয়ে। এ শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। যা অনেক দাবি জানানোর পরেও যেটা বিএনপি সরকার কোনদিন করেনি। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়েছিলেন এবং তার প্রমাণ স্বরূপ আজকের এ চট্টগ্রাম আপনাদের সামনে দাড়িয়ে । সামনে আরো যতদিন যাবে আমরা আরো অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাব এ আশা রাখি।
তিনি চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে আপনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় নষ্ট নাকরে দেশের উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে উদাত্ত আহŸান জানান। বিভিন্ন উন্নত বিশ্বের প্রতি তাকালে দেখবেন তারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কিন্তু তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সারাদিন নয়। আজকে অনেক ধরনের সুযোগ রয়েছে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যেমন স্টার্টাপ প্রোগ্রাম, ফ্রিল্যান্সিং, অনেক ইন্ডাস্ট্রিও রয়েছে। এসব জায়গায় নিজেদের চিন্তা ভাবনা গুলোকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে জীবনকে সুন্দর করে তৈরি করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি করেন। আজকে অনেক বছর পার হয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ইকোনমিতে অবদান রাখার। সেখানে বিভিন্ন পর্যটন এলাকা রয়েছে যেখানে প্রচুর মানুষ যায় এবং প্রকৃতি উপভোগ করে। সুতরাং আমি বলতে চাই যে অশান্তি সৃষ্টি এমন কাজে সময় নষ্ট না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে যদি আমরা নজর দিতে পারি তাহলে দেশের অনেক উপকার হবে।