ডিজিটাল যুগেও সেকেলে’ চবি, পদে পদে ভোগান্তি আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চলছে টাকা প্রদান।
একবিংশ শতাব্দীর মাঝে এসেও যে, সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগ। এ সময়ও চলছে এনালগ পদ্ধতিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘ যা আমাদের ভাববার বিষয়। যেখানে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, টাকা জমা দান পদ্ধতি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনেক অংশে পিছিয়ে যার দরুন শিক্ষার্থীদের কে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হয়। যা তাদের সময় অপচয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। এর দারুণ শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোনিবেশে বাধাগ্রস্থ হয়।
গত ২৪শে জুলাই, সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখায় বিভিন্ন বর্ষের পরিক্ষা ফি জমা দেওয়ার দৃশ্য এটি। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটলেও এনালগ পদ্ধতিতেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফি জমা দিতে হচ্ছে এসব শিক্ষার্থীদের। শুধু ব্যাংক ব্যবস্থা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলছে এনালগ পদ্ধতিতে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অফিসের ফাইল প্রসেসিং চালু করা হলে সময় ব্যয় ও ভোগান্তি কমবে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করতে পারে। প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম এনালগ পদ্ধতি থাকায় যেকোনো কাজের জন্য, তাদের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ছুটতে হয়।
এনালগ ব্যাংকিং সিস্টেম:
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনার সংলগ্ন অগ্রণী ব্যাংকের নিচতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ষে পরীক্ষা ফি জমা দেয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দুইটি বুথে টাকা জমা নিচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মানছে না লাইন। একজনেই ১০-১৫ জনের টাকা একসঙ্গে জমা দিচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে টাকা প্রদানের কথা বললে উল্টো তাদের উপর চড়াও হয় তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন,
পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং সিস্টেম সিস্টেম চালু করেছে।সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনেকাংশে পিছিয়ে এনালগ পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ যার ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের অন্তর্ভুক্ত করে। তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে সহজ হবে।
প্রশাসনিক ভবনে পদে পদে ভোগান্তি:
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে ডিজিটাল নিয়মকানুন চালু হলেও চবিতে তার কোন পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ডাটা সংরক্ষিত থাকে এই শাখায়। ভর্তি কার্যক্রমের পর থেকে এই বিভাগের সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি কাজ থেকে। ডিজিটাল কার্যক্রম চালু আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই ওয়েবসাইটে সয়ংক্রিয় একাউন্ট তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা নিজস্ব আইডি নম্বর দিয়ে সার্চ দিলেই জানতে পারেন তার একাডেমিক অবস্থা। এর ফলে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে সহজে তথ্য পায় শিক্ষার্থীরা।
কিন্তু চবির একাডেমিক শাখায় সামান্য রেজিস্ট্রেশন কার্ড কিংবা কোন ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। একটি জরুরি প্রয়োজনীয় কাগজ তুলতেও সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। ফরম পূরণ করা, তারপর সেই ফরম নিয়ে বিভাগীয় সভাপতি হয়ে হল প্রভোস্টের স্বাক্ষর করা। এরপর ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমার রশিদ নিয়ে আবেদন করা। আবার আবেদন শেষে বেশ কয়েকদিন একাডেমিক শাখার বিভিন্ন টেবিলে ঘুরাঘুরি করে শিক্ষার্থীদের উত্তোলন করতে হয় প্রয়োজনীয় এসব কাগজপত্র। তবে ডিজিটাল কার্যক্রম চালু থাকলে এসব কিছুরই প্রয়োজন হতো না বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও রেজিস্ট্রার ভবনের এই শাখায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা সর্বোপরি প্রশাসনিক কাজের ধীরগতির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন চাইলেই ডিজিটালাইজড প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে এসব একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন :চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সিস্টেম, প্রশাসনিক ভবনের অফিস সহ সকল ক্ষেত্রে ভোগান্তির অন্ত নেই শিক্ষার্থীদের। এই যে,আজ দীর্ঘ এক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হয়েছে যা আসলেই সময় অপচয়।এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চবি রেজিস্টার এ কে এম নূর আহমেদ একাধিক ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।