আসাব উদ্দিন (৩৬) ও নাছিমা বেগম (২০) দুজনেই স্বামী স্ত্রী। দুজনেই প্রতিবন্ধী। সারাদিন ভিক্ষা করে সংসারের চাহিদা মেটান আসাব উদ্দিন। রোদ হোক আর বৃষ্টি হোক প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়। তাদের মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই। ভাঙাচোরা ঘরে এ দম্পতি চার সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। নেই খাবার কিংবা অসুখে চিকিৎসার নিশ্চয়তা। এ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর দম্পতি কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নয়া ঘোনা পাড়ার বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আসাব উদ্দিন (৩৬) ও নাছিমা বেগম (২০) দুজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর বসতঘর ভাঙা মাটির দেয়াল, মরিচা ধরা ঝরঝরা হয়ে গেছে গোটা ঘরের চালের টিন। টিনে তৈরি হয়েছে হাজারো ফুটো। আর তাতে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে যায় ঘরে থাকা কাপড়চোপড় সহ সবকিছু। দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে ঘরের কাঠামোর অবস্থা এতটাই জরাজীর্ণ যে কোনো সময় ভাঙা ঘরটিতে বড় ধারণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের বসতঘরের বর্তমান অবস্থা দেখে একটিকে ঘর না বলে বলা চলে মৃত্যুর ফাঁদ।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আসাব উদ্দিন বলেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মানুষের কাছে ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে ঠিকমতো পরিবারের খরচ জোগাতে পারি না। ঘরের মাটির দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। গোটা ঘরের চাল ঝরঝরা হয়ে গেছে। তবুও এই ভাঙা ঘরে বসবাস করছি।
আসাব উদ্দিনের সহধর্মিণী প্রতিবন্ধী নাছিমা বেগম বলেন, রাতে বৃষ্টি হলেই ঘরে বসে সারারাত কাটতে হয়। ঘরের ভিতরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়। ভাঙা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে মাঝে মধ্যে কুকুর ঢোকে খাবার খেয়ে পেলে। এছাড়াও আমরা সারাক্ষণ ঘরের নিচে চাপা পড়ার ভয়ে থাকি।
কুতুবদিয়ার নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই পরিবারের বিষয়ে অবগত ছিলাম না। সরেজমিনে গিয়ে তাদের পরিবারের পরিস্থিতি দেখে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।