চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানীদাতা উদয় কুসুমের বহিষ্কার প্রত্যাহার

সিটিজি পোস্ট প্রতিবেদক

চবি প্রতিনিধি | সিটিজি পোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানীদাতা উদয় কুসুমের বহিষ্কার প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় উসকানী দাতা উদয় কুসুমের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

শুক্রবার ( ২৮ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আ্যাটাভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "ইতোপূর্বে দলে শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ আপনাকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। আপনার আবেদনরে প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এবং আশা করি ভবিষ্যতে নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে আপনি কাজ করে যাবেন বলে দল আশা রাখে।"

এর আগে গত ৩১ আগস্ট শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় জোবরার স্থানীয়দের নিয়ে এক বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উশৃংখল ও কুলাঙ্গার আখ্যা দিয়ে উসকানী দিলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ওইদিনই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সাংগঠনিক সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সেদিনের ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ভিসি সাহেব এসে দেখে গেছেন, তদন্ত করে গেছেন। আমরা বলতে চাই, এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা সামনে যাতে না হয়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত দুই নম্বর সড়ক অবরোধ থাকবে। কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয় না। আমরা ভিসির সঙ্গে আলোচনা করলে, ভিসির বাপেও এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ উচ্ছৃঙ্খল, কুলাঙ্গার ছেলেগুলো ভিসিকেও মানে না। আমরা বলতে চাই গতকাল সারারাত ধরে এই কুলাঙ্গার ছেলেরা আমাদের গ্রামের মা–ভাইবোনের ওপর নিরস্ত্র হামলা করেছে, এদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন আমাদের মধ্যে ষড়যন্ত্র হতে পারে। কেউ কেউ দলের প্রশ্ন আনতে পারে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা জোবরার সন্তান, এখানে কোনো দল নেই। আমরা সবাই এলাকার নাগরিক, আমাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সবাই এক ও অভিন্ন। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে মাথা নত করব না। অনতিবিলম্বে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে, আমরা জোবরার সমস্ত জনগণ বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করব। এর জন্য জীবন গেলে জীবন দেব। আমার মা–বোনের ইজ্জতের চেয়ে জীবন বড় নয়, আমার এলাকার সন্তানের চেয়ে আমার জীবন বড় নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এখন আমি ভিসির সঙ্গে কথা বলব। সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব এবং রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করব। সোজা আঙুলে ঘি উঠে না। কোনো আন্দোলন বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, কোনো আলোচনা–আপোষের মাধ্যমে সমাধান পাবেন না। সুতরাং সফলতার জন্য আন্দোলন করতে হবে। এ আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সিটিজিপোস্ট/জাউ

ক্যাটাগরি:
চট্টগ্রাম